হালিসহর বা হাবেলীসহর বা কুমারহট্ট আমার বাড়ী। ইতিহাসের অনেক পাতা জুড়ে এর অস্তিত্ব। হালিসহরের ইতিহাসের সাথে কলকাতা তথা সমগ্র বাংলার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। অনেক ঘটনার সাথী, অনেক ভাঙা-গড়ার সাক্ষী এই হালিসহর। হালিসহরের ইতিহাসের পাতা ওল্টালেই যাদের নাম প্রথমে চোখে পরে তাঁরা হলেন সাবর্ণ চৌধুরী বংশ। ভারতে ব্রিটিশদের আসার অনেক আগে থেকেই বাংলার জমিদার ছিলেন এই সাবর্ণ চৌধুরী বংশ। “সাবর্ণ” মুনির বংশধর বলে তাঁদের গোত্র “সাবর্ণ”।
এই বংশের সাথে মুঘল বংশের সম্পর্ক বহু দিনের। সাবর্ণ চৌধুরী বংশের আদি পুরুষ পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায়(সাবর্ণ চৌধুরীদের আদি পদবি ছিল গঙ্গোপাধ্যায়) ছিলেন মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের সেনাবাহিনীর সৈনিক। নিজের শৌর্য-এর জন্যে উনি “শক্তি খাঁ” উপাধি লাভ করেন। সেনাবাহিনীর থেকে অবসর নিয়ে তিনি হালিসহরে এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এক বহুমুখী কর্মশক্তি সম্পন্ন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাই ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বৈদ্য, কায়স্থ, ব্রাহ্মণ পন্ডিত, যন্ত্র শিল্পী, কারুশিল্পী আনিয়ে হালিসহরে বসতি স্থাপন করান। এই নানা পেশার মানুষদের মধ্যে কুম্ভকাররা ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী ও কর্মনিপুন। বলা হয় যে তখনকার এই কুম্ভকারদের হাতের কাজ এতই বিখ্যাত ছিল যে হালিসহর থেকে মাটির তৈরি বাসনপত্র গঙ্গাপথে ভারতের বহু দূরে দূরে রপ্তানী করা হত। সেই সময় কুমোরদের খ্যাতির জন্যে হালিসহরের নাম হয় “কুমারহট্ট”।
পাঁচু শক্তি খাঁ- র পৌত্র কামদেব গঙ্গোপাধ্যায়(ব্রহ্মচারী) ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাধক্ষ মানসিংহের গুরু। এই কামদেব গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র লক্ষ্মীকান্ত ছিলেন এই সাবর্ণ চৌধুরী বংশের এক প্রাণপুরুষ। লক্ষ্মীকান্তের জন্মের সাথে বাংলার কিংবদন্তী তথা ভারতের ধর্ম-ইতিহাসের এক নতুন পাতা খোলে। কথিত আছে যে সন্তান কামনায় কামদেব গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী কালীঘাটে তাঁদের পারিবারিক দেবী কালীর কাছে তিন দিন ধরে প্রার্থনা করেন। তৃতীয় দিন পদ্মাবতী দৈবাদেশ পান। সেই দৈবাদেশ অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন পুকুরে দেবীর ডান পায়ের প্রস্তরীভূত অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। কথিত আছে যে দেবীর পায়ের প্রস্তরীভূত ওই অংশ এখনও কালীঘাট মন্দিরে লোহার সিন্দুকে রাখা আছে। এই পুকুরে স্নান করে পদ্মাবতী পুত্র সন্তান লাভ করেন। সংসারে অনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যের বিচার কিছুটা অন্য রকম ছিল, লক্ষ্মীকান্ত-এর জন্মের তিন দিন পর তাঁর মা মারা যান। স্ত্রীর শোকে কামদেব সন্তানকে ত্যাগ করে সন্যাস গ্রহণ করেন। আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে মা কালীর এক সেবায়েৎ লক্ষ্মীকান্তের দেখাশোনার ভার নেন। পাঁচ বছর বয়সে হাতেখড়ি হয় ও তের বছর বয়সে কালীঘাটের কালীমূর্তির সামনে পূর্ণ শাস্ত্রীয় বিধানে উপনয়ন সম্পন্ন হয় লক্ষ্মীকান্তের। খুব কম সময়ের মধ্যেই সংস্কৃত সাহিত্য, বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর বিশেষ পান্ডিত্য অর্জন করেন তিনি। তিনি সপ্তগ্রামে সরকারের রাজস্ব বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মী হিসাবে যোগ দেন। পরবর্তী কালে নিজের পান্ডিত্য, উপস্থিত বুদ্ধি ও বীরত্বের জন্যে আকবরের সেনাপতি মানসিংহের দ্বারা “মজুমদার”( রাজস্ব কমিশনার) পদমর্যাদায় ভূষিত হন। মাগুরা, খাসপুর, কলিকাতা, পাইকান, হাবেলীসহর সহ এক বিরাট ভূখণ্ডের জমিদারী লক্ষ্মীকান্ত পান সম্রাটের কাছ থেকে। পরে তিনি সম্রাটের কাছ থেকে “রায় চৌধুরী” উপাধিতে ভূষিত হন। লক্ষ্মীকান্ত তাঁর অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে নিজের জমিদারীর অন্তর্গীত ভূখণ্ড সুসংস্কার করেন। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ পাঁচু শক্তি খাঁর দ্বারা সুনির্মিত তৎকালীন হাবেলীসহরে এক বাসস্থান নির্মাণ করেন ও এখানে বসতি স্থাপন করেন।
এই পর আসা যাক আমাদের এই গল্পের মূল চরিত্র, বিদ্যাধর রায় চৌধুরীর কথায়। এতো কিছু না বলে বিদ্যাধরের কথায় সরাসরি আসা যেত কিন্তু সেখানে আসার আগে আমাদের তাঁর বংশের কিছু ইতিহাস জানা দরকার ছিলো তাই এতো বিবরণ। বিদ্যাধরের জন্ম 1640 খ্রিস্টাব্দে। লক্ষ্মীকান্তের প্রপৌত্র বিদ্যাধর রায় চৌধুরী ছিলেন হাবেলীসহরের এক খ্যাতনামা ব্যক্তি। বিদ্যাধর ছিলেন ধর্মপ্রাণ এক ব্যাক্তি। তিনি রোজ গঙ্গা স্নান করে তাঁদের আরাধ্য দেবীর পূজো সারতেন। কিংবদন্তী আছে যে গঙ্গা স্নানের সময় রোজ তিনি একটি পাথরের স্পর্শ পেতেন তাঁর পায়ে। রোজই তিনি ব্যাপারটাকে গ্রাহ্য করতেন না। কিন্তু একদিন যা ঘটলো তার পর তিনি গ্রাহ্য করতে বাধ্য হলেন। এক রাতে বিদ্যাধর স্বপ্ন দেখলেন তাঁর আরাধ্যা দেবী তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছেন গঙ্গায় নিমজ্জিত সেই পাথর এনে সেই এক পাথর থেকে প্রেম-শিব-শক্তি এই তিন মূর্তি নির্মাণ করতে। পর দিন সকালে তিনি বেশকিছু প্রজাকে নিয়ে যান সেই গঙ্গার ঘাটে যেখানে তিনি রোজ স্নান করেন। সকলে মিলে সেই কষ্টিপাথর উঠিয়ে নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। কিন্তু আর এক চিন্তা আসে বিদ্যাধরের মাথায়। দেবীর আদেশে পাথর পাওয়া গেলেও সেই পাথর দিয়ে তিন মূর্তি বানানোর মত ভাস্কর পাওয়া যাবে কোথায়? কথিত আছে যে, পরের দিন এক অন্ধ ভাস্কর আসেন চৌধুরী বাড়িতে। আর এই অন্ধ ভাস্কর তিন মূর্তি বানানোর অধিকার দাবী করেন। এই অন্ধ ভাস্করকে দেখে তাঁর প্রতিভা সমন্ধে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও তাঁর আত্মবিশ্বাসের জন্যে তাঁকে সেই কাজ দিতে রাজি হন বিদ্যাধর। এই ভাস্কর সেই এক পাথর থেকে তিনটি মূর্তি বানান। বলা হয় যে এই মূর্তি তিনটি নির্মাণ সম্পূর্ণ করার পরই নাকি সেই অন্ধ ভাস্কর তার দৃষ্টি ফিরে পান।
সেই তিনটি মূর্তিগুলোর ছবি আর বিবরণ নিচে দেওয়া হলঃ
এই বংশের সাথে মুঘল বংশের সম্পর্ক বহু দিনের। সাবর্ণ চৌধুরী বংশের আদি পুরুষ পঞ্চানন গঙ্গোপাধ্যায়(সাবর্ণ চৌধুরীদের আদি পদবি ছিল গঙ্গোপাধ্যায়) ছিলেন মুঘল সম্রাট হুমায়ূনের সেনাবাহিনীর সৈনিক। নিজের শৌর্য-এর জন্যে উনি “শক্তি খাঁ” উপাধি লাভ করেন। সেনাবাহিনীর থেকে অবসর নিয়ে তিনি হালিসহরে এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এক বহুমুখী কর্মশক্তি সম্পন্ন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিলেন তাই ভারতের বিভিন্ন স্থান থেকে বৈদ্য, কায়স্থ, ব্রাহ্মণ পন্ডিত, যন্ত্র শিল্পী, কারুশিল্পী আনিয়ে হালিসহরে বসতি স্থাপন করান। এই নানা পেশার মানুষদের মধ্যে কুম্ভকাররা ছিলেন বিশেষভাবে পারদর্শী ও কর্মনিপুন। বলা হয় যে তখনকার এই কুম্ভকারদের হাতের কাজ এতই বিখ্যাত ছিল যে হালিসহর থেকে মাটির তৈরি বাসনপত্র গঙ্গাপথে ভারতের বহু দূরে দূরে রপ্তানী করা হত। সেই সময় কুমোরদের খ্যাতির জন্যে হালিসহরের নাম হয় “কুমারহট্ট”।
পাঁচু শক্তি খাঁ- র পৌত্র কামদেব গঙ্গোপাধ্যায়(ব্রহ্মচারী) ছিলেন মুঘল সম্রাট আকবরের সেনাধক্ষ মানসিংহের গুরু। এই কামদেব গঙ্গোপাধ্যায়ের পুত্র লক্ষ্মীকান্ত ছিলেন এই সাবর্ণ চৌধুরী বংশের এক প্রাণপুরুষ। লক্ষ্মীকান্তের জন্মের সাথে বাংলার কিংবদন্তী তথা ভারতের ধর্ম-ইতিহাসের এক নতুন পাতা খোলে। কথিত আছে যে সন্তান কামনায় কামদেব গঙ্গোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী পদ্মাবতী কালীঘাটে তাঁদের পারিবারিক দেবী কালীর কাছে তিন দিন ধরে প্রার্থনা করেন। তৃতীয় দিন পদ্মাবতী দৈবাদেশ পান। সেই দৈবাদেশ অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন পুকুরে দেবীর ডান পায়ের প্রস্তরীভূত অংশ খুঁজে পাওয়া যায়। কথিত আছে যে দেবীর পায়ের প্রস্তরীভূত ওই অংশ এখনও কালীঘাট মন্দিরে লোহার সিন্দুকে রাখা আছে। এই পুকুরে স্নান করে পদ্মাবতী পুত্র সন্তান লাভ করেন। সংসারে অনন্দের জোয়ার বয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্যের বিচার কিছুটা অন্য রকম ছিল, লক্ষ্মীকান্ত-এর জন্মের তিন দিন পর তাঁর মা মারা যান। স্ত্রীর শোকে কামদেব সন্তানকে ত্যাগ করে সন্যাস গ্রহণ করেন। আত্মারাম ব্রহ্মচারী নামে মা কালীর এক সেবায়েৎ লক্ষ্মীকান্তের দেখাশোনার ভার নেন। পাঁচ বছর বয়সে হাতেখড়ি হয় ও তের বছর বয়সে কালীঘাটের কালীমূর্তির সামনে পূর্ণ শাস্ত্রীয় বিধানে উপনয়ন সম্পন্ন হয় লক্ষ্মীকান্তের। খুব কম সময়ের মধ্যেই সংস্কৃত সাহিত্য, বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর বিশেষ পান্ডিত্য অর্জন করেন তিনি। তিনি সপ্তগ্রামে সরকারের রাজস্ব বিভাগের একজন উচ্চপদস্থ কর্মী হিসাবে যোগ দেন। পরবর্তী কালে নিজের পান্ডিত্য, উপস্থিত বুদ্ধি ও বীরত্বের জন্যে আকবরের সেনাপতি মানসিংহের দ্বারা “মজুমদার”( রাজস্ব কমিশনার) পদমর্যাদায় ভূষিত হন। মাগুরা, খাসপুর, কলিকাতা, পাইকান, হাবেলীসহর সহ এক বিরাট ভূখণ্ডের জমিদারী লক্ষ্মীকান্ত পান সম্রাটের কাছ থেকে। পরে তিনি সম্রাটের কাছ থেকে “রায় চৌধুরী” উপাধিতে ভূষিত হন। লক্ষ্মীকান্ত তাঁর অনেক পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় করে নিজের জমিদারীর অন্তর্গীত ভূখণ্ড সুসংস্কার করেন। পরবর্তীকালে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষ পাঁচু শক্তি খাঁর দ্বারা সুনির্মিত তৎকালীন হাবেলীসহরে এক বাসস্থান নির্মাণ করেন ও এখানে বসতি স্থাপন করেন।
এই পর আসা যাক আমাদের এই গল্পের মূল চরিত্র, বিদ্যাধর রায় চৌধুরীর কথায়। এতো কিছু না বলে বিদ্যাধরের কথায় সরাসরি আসা যেত কিন্তু সেখানে আসার আগে আমাদের তাঁর বংশের কিছু ইতিহাস জানা দরকার ছিলো তাই এতো বিবরণ। বিদ্যাধরের জন্ম 1640 খ্রিস্টাব্দে। লক্ষ্মীকান্তের প্রপৌত্র বিদ্যাধর রায় চৌধুরী ছিলেন হাবেলীসহরের এক খ্যাতনামা ব্যক্তি। বিদ্যাধর ছিলেন ধর্মপ্রাণ এক ব্যাক্তি। তিনি রোজ গঙ্গা স্নান করে তাঁদের আরাধ্য দেবীর পূজো সারতেন। কিংবদন্তী আছে যে গঙ্গা স্নানের সময় রোজ তিনি একটি পাথরের স্পর্শ পেতেন তাঁর পায়ে। রোজই তিনি ব্যাপারটাকে গ্রাহ্য করতেন না। কিন্তু একদিন যা ঘটলো তার পর তিনি গ্রাহ্য করতে বাধ্য হলেন। এক রাতে বিদ্যাধর স্বপ্ন দেখলেন তাঁর আরাধ্যা দেবী তাঁকে নির্দেশ দিচ্ছেন গঙ্গায় নিমজ্জিত সেই পাথর এনে সেই এক পাথর থেকে প্রেম-শিব-শক্তি এই তিন মূর্তি নির্মাণ করতে। পর দিন সকালে তিনি বেশকিছু প্রজাকে নিয়ে যান সেই গঙ্গার ঘাটে যেখানে তিনি রোজ স্নান করেন। সকলে মিলে সেই কষ্টিপাথর উঠিয়ে নিয়ে আসা হয় বাড়িতে। কিন্তু আর এক চিন্তা আসে বিদ্যাধরের মাথায়। দেবীর আদেশে পাথর পাওয়া গেলেও সেই পাথর দিয়ে তিন মূর্তি বানানোর মত ভাস্কর পাওয়া যাবে কোথায়? কথিত আছে যে, পরের দিন এক অন্ধ ভাস্কর আসেন চৌধুরী বাড়িতে। আর এই অন্ধ ভাস্কর তিন মূর্তি বানানোর অধিকার দাবী করেন। এই অন্ধ ভাস্করকে দেখে তাঁর প্রতিভা সমন্ধে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করলেও তাঁর আত্মবিশ্বাসের জন্যে তাঁকে সেই কাজ দিতে রাজি হন বিদ্যাধর। এই ভাস্কর সেই এক পাথর থেকে তিনটি মূর্তি বানান। বলা হয় যে এই মূর্তি তিনটি নির্মাণ সম্পূর্ণ করার পরই নাকি সেই অন্ধ ভাস্কর তার দৃষ্টি ফিরে পান।
সেই তিনটি মূর্তিগুলোর ছবি আর বিবরণ নিচে দেওয়া হলঃ
১) শিবের মূর্তি, যা বুড়োশিব নামে প্রতিষ্ঠা করা হয়। যা হালিসহর শিবের গলির বুড়োশিব মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত।
![]() |
| বুড়োশিব |
২) রাধাকৃষ্ণের মূর্তি, যা শ্যামরাই নামে পরিচিত। এই মূর্তি এখন সাবর্ণ চৌধুরী পরিবারের কাছে রাখা আছে ও নিত্য পূজিত হয়। বছরে একবার শ্যামরাই ঘরের বাইরে আসেন। সপ্তম দোলের দিন চৌধুরী পাড়ার(বর্তমানে দোলতলার) শ্যামরাই মন্দিরে এখনও বিরাট করে শ্যামরাইয়ের পূজো হয়।
![]() |
| শ্যামরাই মূর্তি (সাবর্ণ চৌধুরী বংশের সদস্য শ্রী সুব্রত চৌধুরীর সৌজন্যে প্রাপ্ত) |
৩) কালি মূর্তি, যা মা সিদ্ধেশ্বরী নামে পরিচিত। এই মূর্তি প্রথমে বাজারপাড়ার গঙ্গাতীরে(বর্তমানে নিগমানন্দ সরস্বতী মঠের পশ্চিমদিকে) কালিকা দেবীর মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী কালে এই মূর্তি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলিদাঘাটায়। সেখানে সিদ্ধেশ্বরী মন্দির নির্মাণ করে রাখা হয় মা সিদ্ধেশ্বরীকে। আজও বলিদাঘাটার সিদ্ধেশ্বরী মন্দির হালিসহরের সবার কাছে খুব ভালো ভাবে পরিচিত। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে ইংরাজীর ১৯৬৪ সালের ১০ ই নভেম্বর ছটপুজোর দিন সিদ্ধেশ্বরী মন্দির থেকে বিদ্যাধর কর্তৃক নির্মিত মূর্তি চুরি হয়ে যায়। মন্দিরে এখন শুধুমাত্র আদি মূর্তিটির পদযুগল আছে। বর্তমানে মন্দিরে পূজিত মূর্তিটি বাপী ঘোষাল নামে এক ভক্ত কর্তৃক ১৯৯৮ সালের ৮ ই আগস্ট রাখীপুর্ণিমার দিন স্থাপন করা হয়।
![]() |
| আসল সিদ্ধেশ্বরী মূর্তির পদযুগল যা এখনো বলিদাঘাটায় সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে রাখা আছে। |
![]() |
| আসল সিদ্ধেশ্বরী কালী মূর্তি (সাবর্ণ চৌধুরী বংশের সদস্য শ্রী সুব্রত চৌধুরীর সৌজন্যে প্রাপ্ত) |
![]() |
| সিদ্ধেশ্বরী মায়ের বর্তমান মূর্তি |





No comments:
Post a Comment