শোনা যায় যে ১৬৯৪ সালে শান্তিপুরের কাছে উলা নামে এক গ্রামের মহাদেব নামে এক বৈষ্ণব বেক্তি পানের বরজে সুন্দর এক মানব শিশুকে কুড়িয়ে পায়। সেই দিন সম্ভবত ছিল পূর্ণিমা, তাই সেই ছোট্ট ছেলেটির নাম রাখা হল পূর্ণচন্দ্র। সেই থেকে শুরু হয় কর্তাভজা সম্প্রদায়ের ইতিহাস। পূর্ণচন্দ্র প্রথমে ধর্মশাস্ত্র ও পরে বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নেন, জন্ম হয় আঁউলচাঁদের। বেড়িয়ে পরেন ঘর থেকে। তার পরের ইতিহাস প্রায় সবাই জানি। ঘুরতে ঘুরতে উনি আসেন নদীয়ার ঘোষপাড়াতে। ডালিম তলায় বসেন। এই দিকে রামশরণ পাল নামে গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত বেক্তির স্ত্রী সরস্বতী দেবীর মরণাপন্ন অবস্থা। তাঁকে এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে কাছের এক পুকুরের থেকে মাটি তুলে সেই মাটি সারা গায়ে লেপে দেন আঁউলচাঁদ। কিছুক্ষনের মধ্যে সরস্বতী দেবী সুস্থ হতে থাকেন এবং প্রাণ ফিরে পান। এই সরস্বতী দেবীই হলেন 'সতী মা', যার নামে 'সতী মায়ের মন্দির' বা 'সতী মায়ের মেলা'। ২২ জন শিষ্য নিয়ে শুরু হয় প্রথম কর্তাভজা সম্প্রদায়। পরবর্তীকালে দুই বাংলা জুড়ে ছেয়ে যায় কর্তাভজা সম্প্রদায়। ঘোষপাড়াকে কর্তাভজা সম্প্রদায়ের প্রধান কেন্দ্র করার কাণ্ডারি ছিলেন রামশরণ পাল তার পরে সেই হাল ধরেন সতী মা নিজে ও ওনাদের ছেলে দুলালচাঁদ। দুলালচাঁদই প্রথম এই সম্প্রদায়কে প্রথম সংগঠিত করেন।
প্রতি বছর দোল পূর্ণিমার আগের দিন থেকে সারা রাত থেকে দোলের দিন পর্যন্ত এই মেলা হয় কল্যাণী ঘোষপাড়া্তে। কর্তাভজা মানে মানুষ ভজা। কোন রকম দেব-দেবী, একজন গুরু বানাও (যাকে ওনারা বলেন মহাজন) আর তাঁকে ভক্তিভাবে পূজা করো। দুই বাংলার সব কর্তাভজারা আসেন তাদের মহাজনকে খাজনা দিতে। সবাই মিলে আসেন, ২ দিন এক একটা দলের এক সাথে খাওয়া দাওয়া হয়। এই কারণে এই মেলার এক বিশেষ দিক আছে। এই মেলাতে থালা-বাটি, শাক-সব্জি, মুদিখানা, মাছ, জ্বালানির শুকনো কাঠ সব কিছু পাওয়া যায়। আগে যে ডালিম গাছের কথা বললাম সেই ডালিম গাছ এখনও আছে মন্দিরের ভেতরদিকে, আর যে পুকুরের কথা বললাম সেটা এখনও আছে দুধ পুকুর নামে। ভক্তরা এই দুধ পুকুরে স্নান করে দণ্ডি কেটে ডালিম গাছ পর্যন্ত গিয়ে পূজা দেন।
কে কোথা থেকে এসেছে তাঁর খোঁজ নেই, কিন্তু এক মানুষের সাথে অন্য মানুষের ব্যাবহার আর আতিথেয়তা দেখে মনে হয় কত দিনের না চেনা।
মেলা তো হয় মাঠে কিন্তু মেলে মানুষের মন।
প্রতি বছর দোল পূর্ণিমার আগের দিন থেকে সারা রাত থেকে দোলের দিন পর্যন্ত এই মেলা হয় কল্যাণী ঘোষপাড়া্তে। কর্তাভজা মানে মানুষ ভজা। কোন রকম দেব-দেবী, একজন গুরু বানাও (যাকে ওনারা বলেন মহাজন) আর তাঁকে ভক্তিভাবে পূজা করো। দুই বাংলার সব কর্তাভজারা আসেন তাদের মহাজনকে খাজনা দিতে। সবাই মিলে আসেন, ২ দিন এক একটা দলের এক সাথে খাওয়া দাওয়া হয়। এই কারণে এই মেলার এক বিশেষ দিক আছে। এই মেলাতে থালা-বাটি, শাক-সব্জি, মুদিখানা, মাছ, জ্বালানির শুকনো কাঠ সব কিছু পাওয়া যায়। আগে যে ডালিম গাছের কথা বললাম সেই ডালিম গাছ এখনও আছে মন্দিরের ভেতরদিকে, আর যে পুকুরের কথা বললাম সেটা এখনও আছে দুধ পুকুর নামে। ভক্তরা এই দুধ পুকুরে স্নান করে দণ্ডি কেটে ডালিম গাছ পর্যন্ত গিয়ে পূজা দেন।
কে কোথা থেকে এসেছে তাঁর খোঁজ নেই, কিন্তু এক মানুষের সাথে অন্য মানুষের ব্যাবহার আর আতিথেয়তা দেখে মনে হয় কত দিনের না চেনা।
মেলা তো হয় মাঠে কিন্তু মেলে মানুষের মন।





















উওফফফ... কী দারুন লেখা আর সেই সাথে ছবিগুলো... আমাদের যাওয়া সার্থক হয়েছে... :)
ReplyDeleteবলো জয় সতীমা
ReplyDelete